রমজান মাসের ফজিলত ও আমল জেনে নিন
রমজান মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন তাহলে আপনি সঠিক জায়গাতে এসেছেন। আমরা অনেকেই জানিনা রমজান মাসের ফজিলত কি ও আমল গুলো কি কি?
তাই আপনাদেরকে জানানোর জন্য আজকের এই পোস্টটি করা। সম্পূর্ণ পোস্ট করলে সকল বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক রমজান মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে।
পোস্ট সূচিপত্র : রমজান মাসের ফজিলত ও আমল জেনে নিন
১. রমজান মাসের ফজিলত ও আমল
রমজান মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন রমজান এমন এক মহিমাম ও গৌরব মান্ডিত মাস। যে মাসে আল্লাহ তায়ালা পাক কালাম কোরআন মসজিদ অবতরণ হয়েছে। আসমানে কিতাব সমূহের সর্বশেষ কিতাব। বিশ্ব মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তি সনদ। সর্বযুগের সব দেশের সর্ব জাতির সর্ব ঘৃণ জীবন ব্যবস্থাপনার অপরিবর্তন ও বিধান আল কোরআন রমজান মাসে নাজিল করা হয়েছে।
এটা রমজান মাসে বিশেষ ফজিলতের কথাই প্রমাণ করে। রমজান মাসে কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। কথাটির তাৎপর্য হয়েছে এই মাসে। সমস্ত কোরআন মজিদকে লোহায় মাহফুজ হতে প্রথম আসমানে নাজিল করা হয়। তারপর প্রয়োজন মোতাবেক সেই স্থান হতে কিছু কিছু করে হযরত নবী করিম (সাঃ) এর কাছে ওহি রূপে প্রেরণ করা হয়।
এবং এভাবে ২৩ বছরে ৩০ টি পারা কোরআন শরীফ হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর ওপর নাযিল হয়। কোরআন শরীফ ছাড়া পরবর্তী আসমানি কিতাব সমূহ এবং সহিফাগুলো রমজান মাসে নাযিল করা হয়েছিল। এই রমজান মাসে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের রমজানের প্রথম বা ৩ তারিখে সহীফালাব করেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম রমজানের ৬ তারিখে তাওরাত কিতাব লাভ করেন।
হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম জাবুর কিতাব লাভ করে। রমজানের ১৮ তারিখে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ইঞ্জিন কিতাব লাভ করেন রমজানের ১২ তারিখে। এটা হতে বোঝা যায় রমজান মাসের সাথে আসমানের কিতাব গুলোর এক বিশাল সম্পর্ক রয়েছে।
২. রমজান মাসের ফজিলত
রমজান মাসের ফজিলত ও আমল এর ভেতরে ফজিলত হচ্ছে নবী করিম ও সাহাবারা রমজান মাস আসার দুই মাস আগে থেকে কবে রমজান মাস আসবে এজন্য ব্যাকুলতা প্রকাশ করতেন। উদ্বিগ্ন হয়ে থাকতেন যে আমরা রমজান পাব কিনা। কখন রমজান আসছে। তারা বলতেন হে আল্লাহ রজব ও শাবান মাসের বরকত দিন এবং রমজান পর্যন্ত আমাদেরকে পৌঁছে দিন।
এই পবিত্র মাসে আল্লাহতালা আমাদের আল্লাহ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এ মাসে আমাদের জন্য সিয়াম কে তিনি ফরজ করেছেন। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করছেন, ওহে বিশ্বাসীরা সিয়ামকে এই রমাদান মাসে তোমাদের জন্য অবধারিত করা হয়েছে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরেও এই সিয়ামকে অবধারিত করা হয়েছিল। যাতে করে তোমরা আল্লাহর সচেতনতা পাও।
এটা থেকে বোঝা গেল এই সিয়াম বা রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ সচেতন হওয়া। এই সিয়াম আমাদেরকে আল্লাহ সচেতন বানায়। এটার মাঝে আমাদের ভেতরে এমন একটা সচেতনতা কাজ করে যে আল্লাহ আমাদের দেখছেন এই চিন্তাটা কে ধরে রাখার জন্যই আল্লাহতালা এই মাসকে আমাদের উপর দিয়েছেন। যাতে করে তোমরা আল্লাহর সচেতন হতে পারো।
আমরা যখন রোজা পালন করি তখন আমরা ক্ষুধার্ত, আমরা তৃষ্ণার্ত ঘরের ভেতরে কেউ নেই কেউ আমাকে দেখছে না আমরা চাইলেই খেয়ে ফেলতে পারি আমি চাইলে কিন্তু পান করে আমার তৃষ্ণা মেটাতে পারি কিন্তু আমি খাচ্ছি ও না পান ও করছি না কারণ আমি এটা বুঝতে পারি যে কেউ দেখেনা কিন্তু আল্লাহ দেখে। রমজান মাসে এই ফজিলত গুলো রয়েছে।
৩. রমজান মাসের আমল
রমজান মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা দরকার। এটা জানা দরকার যে রমজান মাসের আমল গুলো কি। রমজান মাসে অবশ্যই বিশেষ কিছু আমল রয়েছে। যেগুলো আমাদের সবার করা উচিত। যার আমলনামা যত সুন্দর তার পরকাল তত সুন্দর। আমলনামা দিয়ে জীবনকে সাজাতে হবে। চলুন কথা না বাড়িয়ে জেনে নেওয়া যাক রমজান মাসের আমল গুলো কি?
রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন ১০০০ বার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ বেশি বেশি করে এই আমলটা করতে হবে। রমজান মাসের দ্বিতীয় ১০ দিন ১০০০ বার আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুলি জাম্বি ওয়া তুবু ইলাহী লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লাহ বিল্লাহিল আজিজুল আজিম এই আমলটা করতে হবে। রমজান মাসের তৃতীয় ১০ দিন ১০০০ বার আল্লাহুম্মা ইন্না আজ আলুকাল জান্নাতুল ফেরদৌস।
আরো পড়ুন : ইমানদার ব্যক্তির ভালো কাজের তালিকা
এছাড়া আপনি রমজান মাস পুরোটা জুড়ে এই আমল গুলো করতে পারেন যেগুলো হলো : সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আস্তাগফিরুল্লাহ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফিয়া, রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বি আনি সাগিরা, লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুদংতু মিনাজ জ্বালিমিন, আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আউযুবিকা মিনান্নার। রমজান মাসে এই আমল গুলো বেশি বেশি করে করবেন।
৪. রমজানের ৬-৭ দিন আগের নবীজীর আমল
রমজান মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে জানার সাথে এটিও জানতে হবে যে আমাদের নবী রমজান মাসের ৬ থেকে ৭ দিন আগে কোন আমলগুলো করতো সে সম্পর্কে। রমজানের ৬ থেকে ৭ দিন আগে নবীজি যে আমল করতেন এবং যে আমলগুলো থেকে বিরত থাকতেন। বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায় নবী করীম (সাঃ) অন্যান্য ফরজ ইবাদতের মতো পবিত্র রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করত এবং উম্মতকেও এ ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন।
রমজান প্রাপ্তির জন্য দোয়া করা আমলের তাওফিকের জন্যও দোয়া করা নবীজির স্বভাব ছিল। রমজান প্রাপ্তির জন্য রাসূল (সাঃ) রজব মাস থেকেই দোয়া করতেন। যখন রজব মাস প্রবেশ করত তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলতেন। হে আল্লাহ, রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। পূর্বসূরী অনেক আলেম থেকে রমজান পাওয়ার জন্য দোয়া করার কথা বর্ণিত হয়েছে।
মোয়াল্লাবিন ফজল (রা.) বলেছেন তারা ছয় মাস দোয়া করতেন রমজান মাস পাওয়ার জন্য এবং ছয় মাস দোয়া করতেন তাদের আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্য। ইয়াইয়া বিন কাসির (রা.) বলেন হে আল্লাহ আমাকে রমজান পর্যন্ত নিরাপদ রাখুন। রমজানকে আমার জন্য নিরাপদ করুন এবং রমজানের আমল গুলো কবুল করে আমার কাছ থেকে রমজানকে বিদায় করবেন। রমজানের জন্য দিনক্ষণ গণনা করা: রমজানের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে রমজানের জন্য শাবান মাসের তারিখের হিসাব রাখা এবং দিনক্ষণ গণনা করা ও রমজান পূর্বক একটি সুন্নতি আমল।
৫. তারাবির নামাজের নিয়ম
রমজান মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে জানার সাথে এটাও জানতে হবে যে রমজান মাসে তারাবির নামাজের নিয়ম। রমজান মাসের এশার নামাজের চার রাকাত সুন্নত, চার রাকাত ফরজ, ও দুই রাকাত সুন্নতের পর ও তিন রাকাত বেতের নামাজের আগে শুরু হয় তারাবির নামাজ। দুই রাকাত করে দশ বার তাশাহুদ অর্থাৎ দশ বার সালাম ফিরানোর মাধ্যমে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ বা তারাবিহ আদায় করতে হয়।
এটি এমন একটি নামাজ যেটি আপনার মনে প্রশান্তি আনে। তারাবি অর্থ হচ্ছে প্রশান্তি আনা। নামাজটি পড়ার সময় অনেক মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে এবং স্থিরতা ভাবে নামাজটা আদায় করতে হবে। এটা হচ্ছে একটা স্থানান্তর নামাজ। এই নামাজটি খুব সাবধানে ধীরে ধীরে সুস্থভাবে শেষ করতে হবে। খুবই সুন্দর ভাবে নামাজটি পড়তে হবে। বেশি তাড়াহুড়ো করা যাবে না আস্তে ধীরে নামাজটা শেষ করতে হবে।
তারাবির নামাজ মোট ২০ রাকাত। কেউ বলে ১৮ কাত আবার কেউ বলে ভালো না কথা কিন্তু এই নামাজটা পড়ার আসল নিয়ম হলো ২০ রাকাত। এটি একটি নফল ইবাদত আপনি যত ইচ্ছা তত পড়তে পারেন। তারাবির নামাজ শেষ করে এশার বেতের তিন রাকাত নামাজ শেষ করে একবারে মোনাজাত ধরে আপনি আপনার সম্পন্ন করতে পারেন। তারাবির নামাজের এই নিয়ম মেনে চললে আপনার নামাজ পড়া সঠিক হবে।
লেখকের মন্তব্য
রমজান মাসের ফজিলত ও আমল সম্পর্কে আপনাদের সাথে এই পোস্টে সকল বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর এই পোস্টটি পড়ে পেয়ে গেছেন। সকল প্রকার তথ্যভিত্তিক পোস্ট পেতে অল টপিক আইটিতে নিয়মিত ভিজিট করবেন। অল টপিক আইটি নির্ভুল এবং সঠিক তথ্য দিয়ে থাকে ধন্যবাদ।
অল টপিক আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। মেনে কমেন্ট করুন।
comment url